কাস্টমারের আরজেন্সি থাকলে আমরা যারা ফাউন্ডার আছি দুবাই বোরকা এর তারা নিজেরাই চলে যায় ডেলিভারি করতে

দুবাই বোরকা

গতকালের একটা ঘটনা বলি।
আমরা সাধারনত থার্ড পার্টি দিয়ে ডেলিভারি করি ঢাকার মধ্যে হলে। কিন্ত ডেলিভারি এর প্রেশার থাকলে কিম্বা কাস্টমারের আরজেন্সি থাকলে আমরা যারা ফাউন্ডার আছি দুবাই বোরকা এর তারা নিজেরাই চলে যায় ডেলিভারি করতে। ধানমন্ডি এর আসে পাসে কোথাও হলে আমি যায় ডেলিভারি করতে। কারন এই এরিয়াতেই আমার বাসা। কাজ কে আমরা কখনোই ছোট করে দেখি না। নিজের কাজ নিজে করলে সম্মান যায় না এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

যাই হোক এইবার আসল কথায় আসি। অর্ডারটা ছিলো গত বুধবারের আপুটি বলেছিলেন উনি সোমবার নিবেন ডেলিভারিটা। আমি লোকেশন জিজ্ঞাসা করি তাকে, তিনি বলেন মোহাম্মাদপুর দিতে হবে। আমি বলেছিলাম যেদিন নিবেন তার আগের দিন জানাবেন পরের দিন ডেলিভারি দেওয়া যাবে। রবিবারে আপু কল দিয়ে বললেন কাল ডেলিভারিটা করবেন সন্ধার পরে। আমি বললাম ঠিক আছে দেওয়া যাবে। ধানমন্ডি থেকে মোহাম্মাদপুর বেশি দূরে না। আর আমার শরীর ও সারাদিন বসে থাকতে থাকতে আল্লাহর রহমতে গোস্ত আর চর্বীর পরিমান মা-শা-আল্লাহ। তাই ইদানিং আমি সাইকেল ব্যাবহার করি আসে পাসে যাতায়াতের জন্য। আমি সোমবার আপুকে কল দিলাম। অনেক বার কল করার পর তিনি ধরেন নি। পরে দেখি ফোনটাই বন্ধ। সেদিন আর ডেলিভারিটা করা হল না। প্রডাক্ট আমার কাছে।

পরের দিন আপু কল করে বললেন আজকে বিকালে কি ডেলিভারিটা করতে পারব কিনা। তখন বাজে অলমোস্ট ৩টা। আমি তখন এয়ার পোর্টে আমার বড় ভাই, ভাবি আর ভাস্তিকে রিসিভ করতে চলে গিয়েছি। আমি তাকে বললাম সকালে আমি নিজে গিয়ে ডেলিভারিটা করে আসব। তিনি বললেন ঠিক আছে সকালেই আসেন। জথারিতি সকালে ঘুম থেকে ঊঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে বের হয়ে পরলাম মোহাম্মাদপুরের উদ্দেশ্যে। মোহাম্মাদপুর পৌঁছানোর পর কল দিয়ে বললাম আমি মোহাম্মাদপুর বাস স্ট্যান্ডে আছি এখন কোথায় আসব সেটা বলুন। বলে রাখি এর আগে যে এড্রেস দিয়েছিলেন সেটা উনি ভুল করেছিলেন। উনি বলেছিলেন মোহাম্মাদপুর আসলে বলবেন কোথায় আসতে হবে। তারপর তিনি বলেছিলেন বসিলা এর দিকে যেতে। কিছুদুর যাওয়ার পর কল দিলাম তখন তিনি বললেন এটা কেরানিগঞ্জ এর ভেতর কলাটিয়া নামক এলাকাই আসতে হবে। আমি তখন বললাম ম্যাম আপনি তো বলেছিলেন মোহাম্মাদপুরে। তখন তিনি বললেন আপনি আসেন আমি আপনার ভাড়া দিয়ে দিচ্ছি। আমি বললাম ম্যাম আমি তো সাইকেলে আসছি। তখন উনি বললেন কি বলেন সাইকেলে আসছেন কেন? আমি বললাম আপনি মোহাম্মাদপুর বলেছিলেন এই জন্য। তার পর বললেন সাইকেল রেখে সি এন জি তে করে আসুন। তখন মাঝ রাস্তাই সাইকেল রেখে যাওয়া সম্ভব ছিল না।

কিছুক্ষন দাড়িয়ে থেকে ছোটবেলার কথা মনে পরল যখন আমি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাইকেল চালাইতাম। আর মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম যায় নতুন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন কিছু এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে আসি। সাইকেল টুর দিয়ে আসি একাই। মানুষের কাছে শুনতে শুনতে চলে গেলাম কলাটিয়া। কলাটিয়া থেকে বেশ খানিক ভিতরে ছিলো বাসা। বাসার মানুষ আমাকে দেখে জেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে এরকম অবস্থা। আমাকে নিয়ে তারা অনেক ব্যাস্ত হয়ে গিয়েছে। আমি এতদুর সাইকেল চালিয়ে আসছি এজন্য। বিষয়টা আমার সারা পথের ক্লান্তি যেন নিমিশেই শেষ করে দিল। তারপর প্রডাক্ট হাতে দিয়ে বললাম ট্রায়াল দিয়ে দেখুন। যদি ভালো না লাগে তাহলে অবশ্যই ফেরত দিবেন। আমি এতদুর কষ্ট করে আসছি এই জন্য সিম্প্যাথি দেখিয়ে রেখে দিবেন না। আপনি আমার কাস্টমার। আপনি আমাকে দেখে প্রডাক্ট নিবেন না। আপনি প্রডাক্ট দেখে প্রডাক্ট কিনবেন। আমার কথা শুনে উনি খুশি হলে আর বললেন অনলাইনে আজকাল বিশ্বাস নাই তবে আপনাদের কথা এবং কাজের ধরন দেখে সত্যি অনেক ভালো লেগেছে। এরপর থেকে বোরকা কিনলে আপাদের থেকেই কিনব। আর যদি পারেন তাহলে ড্রেস ও সেল করা শুরু করেন। আমাদের ফেমিলি এর সব ড্রেস আপনাদের কাছ থেকেই কিনব। আমি বললাম এখনো এত বড় পজিশনে যেতে পারিনি ম্যাম। পরে তিনি আবারো সরি বলে বলতাছেন যে ওনার নাত্নি অর্ডারটা করেছিলেন আর অরা মোহামাম্মাদপুর বসিলার ওখানেই থাকে কিন্তু হঠাৎ করেই কলাটিয়াতে চলে আসছে এই জন্যই ঝামেলাটা হয়েছে। আমি আবারও বললাম ম্যাম এইটাতে কোন সমসস্যায় হয়নি। আমি কিছু মনে করিনি। আমার আরো অনেক ভালো লেগেছে এতদিন পর এরকম একটা সুন্দর এক্সপেরিয়েন্স হল। প্রডাক্টটি তার অনেক ভালো লেগেছে এই জন্য সে আরো ৩টা বোরকার অর্ডার করলেন ।

আপনাদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা আর এরকম ছোট ছোট মজার এক্সপেরিয়েন্স পেতে সত্যি অনেক ভালো লাগে। <3

#দুবাই_বোরকা
#Dubai_Borka
আমরা আছি সব সময় আপনার পাশে, আপনার প্রয়োজনে। <3

#Dubai_Borka – We care Modesty 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *